সামাজিক দায়বদ্ধের টাকার মৌমাছি পালনে স্বপ্নভঙ্গ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকদের!
স্বয়ং শার্লক হোমস গোয়েন্দাগিরি ছেড়ে মৌমাছি প্রতিপালন করেছিলেন লক্ষ্মী লাভের জন্য।লক্ষীলাভ হওয়া দূরে থাক, বরং সেই মৌমাছি প্রতিপালন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্…
সামাজিক দায়বদ্ধের টাকার মৌমাছি পালনে স্বপ্নভঙ্গ
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকদের!
স্বয়ং শার্লক হোমস গোয়েন্দাগিরি ছেড়ে মৌমাছি প্রতিপালন করেছিলেন লক্ষ্মী লাভের জন্য।লক্ষীলাভ হওয়া দূরে থাক, বরং সেই মৌমাছি প্রতিপালন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন চাষীরা।প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না মেলা এবং সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ার কারণে বছর ঘুরতে না ঘুরতে মুখ থুবড়ে পড়েছে । ফলে বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রকল্পে লক্ষ লক্ষ টাকা বৃথা গেল বলে মনে করছে শিল্পমহল।
২০২৪ সালে শিল্প- সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচিতে মৌমাছি প্রতিপালনে জোর দেওয়ার জন্য হলদিয়ার একটি সংস্থাকে লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়েছিল হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যাল লিমিটেড। শর্ত ছিল, শিল্পাঞ্চল এলাকার পার্শ্ববর্তী গ্রামীণ এলাকায় গরিব মানুষ মৌমাছি প্রতিপালনের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করে তা বিক্রি করে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে সাবলম্বী হবেন। গত বছর হলদিয়া পুরসভার প্রেস কর্নারে দু দফা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞদের এনে সেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। তারপর হলদিয়া এবং সুতাহাটা ব্লকের জনা তিরিশেক মহিলাকে মৌমাছি প্রতিপালনের জন্য বাক্স তুলে দেওয়া হয়। এমন এক অভিনব উদ্যোগে লক্ষী লাভের স্বপ্ন দেখেছিলেন গ্রামের মহিলারা। কিন্তু এক বছর ঘুরতে না ঘুরতে ফের এক ডিসেম্বরে স্বপ্নভঙ্গ হয়ে গিয়েছে চাষীদের। হলদিয়া উন্নয়ন ব্লকের কিসমত শিবরাম নগরের বাসিন্দা, নিয়তি ঘোড়াই বলেন,"এত ছোট বাক্স দিয়েছে দু-তিন মাস যেতে না যেতেই মৌমাছি সব পালিয়ে গিয়েছে। প্রথমের দিকে দু -একজন এসে দেখে যেত আমরা ঠিক মতন প্রতিপালন করতে পারছি কিনা। তারপর আর কেউ খোঁজ নেয় না"। একই রকম অভিজ্ঞতা ওই গ্রামেরই আরও দুই মহিলার। তাঁরাও জানাচ্ছেন, কাঠের বাক্স কোথায় আছে কে জানে! সুতাহাটা আশাদতলিয়া গ্রামের এক মহিলা বলেন,"এক বছর ধরে কেন মধুর উৎপন্ন করতে পারছি না সেটা নিয়ে যারা দেখতে আসত প্রকল্প তারা কিছুই বলতে পারত না। মৌমাছি প্রতিপালনের সঠিক পরামর্শ এবং পদ্ধতি কিছুই জানানো হয়নি।"স্থানীয় চাউলখোলা গ্রামের এক চাষী বলেন," মধু তৈরি করতে পারিনি। বেকার চাষ করে লাভ কি আছে। তাই প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছি"।
প্রসঙ্গত, পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতায় মৌমাছি প্রতি পালনে র মাধ্যমে স্বনির্ভর হচ্ছেন অনেকেই। কিন্তু , হলদিয়াতে কেন সম্ভব হলো না? উদ্যান পালনের সঙ্গে যুক্ত কাঁথি র এক শিক্ষক রামকৃষ্ণ মাইতি বলেন,"আবহাওয়া এবং ফুলের প্রাচুর্যের উপর নির্ভর করে মৌমাছি প্রতিপালন"। হলদিয়ার এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত এক আধিকারিক বলেন,"যেসব বাক্স দেওয়া হয়েছিল সেগুলো স্বাস্থ্যসম্মত ছিল না। তাই মৌমাছি উড়ে গিয়েছে"। হলদিয়ার ওই শিল্প সংস্থার তরফে যাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচিতে অর্থ দেওয়া হয়েছিল ওই সংস্থার কর্ণধার উত্তম বেরা ওরফে স্বামী বিবেকাত্মানন্দ বলেন," এ ধরনের প্রকল্পে আমরাও প্রথম কাজ করছি। বাক্সের পাশ দিয়ে রানী মৌমাছি গেলে বাকি মৌমাছিরা পালিয়ে যেতে পারে। তবে মৌমাছি পালিয়ে গেলে আমরা পুনরায় মৌমাছি দিয়ে এসেছি। তারপরেও যদি আবার উড়ে যায় খোঁজ নিয়ে দেখব"। ইতিপূর্বে ওই সংস্থা সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রকল্পে অর্থ পেয়ে গিয়েছে। কিন্তু যে উদ্দেশ্যে সে অর্থ দেওয়া হয়েছিল তা কতটা সফল হয়েছে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ওই পেট্রো-রসায়ন সংস্থার প্রশাসনিক বিভাগের আধিকারিক সমীরণ সরকার বলেন," সংস্থার অর্থ ঠিকই। তবে যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তারাই পুরো বিষয়টা দেখভাল করছে।"

No comments