নম্বর প্লেট, চেসিস নম্বর বদলে গাড়ি ছিনতাই করছে খোদ মালিক, হলদিয়ায় হাইজ্যাকিং নিয়ে নাজেহাল পুলিশ!
গাড়ির মালিকই হলদিয়ায় গাড়ি ছিনতাইচক্রের পাণ্ডা। একবার নয়, বার বার হলদিয়ায় এঘটনা ঘটছে। মাসদেড়েক আগে সুভাহাটার এক গাড়ির মালিক ধরা পড়েছিল…
নম্বর প্লেট, চেসিস নম্বর বদলে গাড়ি ছিনতাই করছে খোদ মালিক, হলদিয়ায় হাইজ্যাকিং নিয়ে নাজেহাল পুলিশ!
গাড়ির মালিকই হলদিয়ায় গাড়ি ছিনতাইচক্রের পাণ্ডা। একবার নয়, বার বার হলদিয়ায় এঘটনা ঘটছে। মাসদেড়েক আগে সুভাহাটার এক গাড়ির মালিক ধরা পড়েছিল ছিনতাইয়ের ঘটনায়। এবার ধরা পড়ল আর এক ছিনতাইকারী, যার বাড়ি ঝাড়খণ্ডে। তদন্তকারী পুলিস জানিয়েছে, এই ধরনের ছিনতাইকারীদের মোডাস অপারেন্ডি প্রায় একই ধরনের। গাড়ির নম্বর প্লেট বদলে ছিনতাই করছে। এখন আবার নতুন টেকনিক নিয়েছে, গাড়ির চেসিস নম্বর পর্যন্ত কদলে ফেলছে। গাড়ির নম্বরের সঙ্গে আধার লিঙ্ক করে তারা দালাল মারফৎ ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিকে দিচ্ছে। ফলে ছিনতাইয়ের পর দুষ্কৃতীদের খুঁজতে কার্যত কালঘাম ছুটছে পুলিসের। দু'মাস আগে হলনিয়র এক্সাইডের ব্যাটারি বোঝাই গাড়ি হাইজ্যাকিং কাণ্ডে সোমবার ভবানীপুর থানার পুলিস গাড়ির মালিক সহ দু'জনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের নাম আবদুল বারিক এবং মজফ্ফর আনসারি। আবদুলের বাড়ি উত্তরপ্রদেশ ও আনসারির বাড়ি ঝাড়খণ্ডে। আনসারি ছিনতাই হওয়া ট্রাকের মালিক। নম্বর প্লেট পাল্টে দিয়ে নিজের ব্যাটারি বোঝাই ট্রাক হাইজ্যাক করেছিল বলে অভিযোগ।
গত মার্চ মাসে হলদিয়া থেকে উত্তরপ্রদেশের বারানসী যাওয়ার পথে মাঝরাস্তায় রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গিয়েছিল প্রায় ৪৩ লক্ষ টাকার দামি ব্যাটারি বোঝাই ট্রাক। ভবানীপুর থানা এলাকায় এইচপিএল লিঙ্ক রোড সংলগ্ন বসবেড়িয়ার এক্সাইড ব্যাটারি (ক্লোরাইড মেটাল নামে পরিচিত। কারখানায় মাল বোঝাই করে ওই ট্রাক বারানসীর উদ্দেশে যাচ্ছিল। গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম বা জিপিএস নজরদারিকে ধোঁকা দিয়ে ব্যাটারি সহ ট্রাকটি হাইজ্যাক করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ব্যাটারি সরবরাহকারী ট্রান্সপোর্ট সংস্থ্য ভবানীপুর খানায় প্রায় একমাস পর অভিযোগ দায়ের করে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৩ মার্চ এক্সাইড কারখানা থেকে ৪১০শিস ব্যাটারি নিয়ে ১২ ঢাকার একটি দাবি বারানসী এক্সাইড ব্যাটারি কারখানার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। মাঝরাস্তায় ট্রাক সহ পণ্য উধাও হয়ে গিয়েছে বলে ভি ট্রান্স নামে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রান্সপোর্ট সংস্থ্য অভিযোগ করে। ওই ঘটনায় এসআই দিদীশ গুপ্তার নেতৃত্বে তদন্তে নামে ভবানীপুর থানার পুলিস।
ওসি ইমরান মোল্লা বাদেন, মাসদেড়েকের চেষ্টায় অবশেষে ছিনতাই চক্রের পাণ্ডারা পুলিসের জালে ধরা পড়েছে। সোমবার ধৃতদের হলদিয়া মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছিল। আদালত ৮দিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। এবার এদের জিজ্ঞাসাবাদ চলবে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়খণ্ডের বাসিন্দা ধৃত আনসারির গাড়ির ব্যাবসা রয়েছে। তার বাছ থেকে বালান মারফৎ গাড়ি ভাড়ায় নিয়েছিল ট্রান্সপোর্ট সংস্থা। যে ট্রাক হলদিয়া এসেছিল তার নম্বর প্লেট বদলে দিয়েছিল ছিনতাইকারীরা। অন্যএকটি গাড়ির নম্বর ব্যবহার করা হয়েছিন। হলালিয়ায় যখন গাড়ি লোডিং হয়, জখন ড্রাইভার ও হেজাতকে সামনে রেখে নম্বর প্লেট সহ গাড়ির ছবি তুলে রাখা হয়। ছিনতাই আটকাতে নতুন নিয়ম চালু হয়েছে। পুলিস ছিনতাই হওয়া গাড়ির নম্বর অনলাইনে সার্চ করে গাড়ির মালিকের কাছে পৌঁছয়। গাড়ির মালিক জানান তিনি গাড়ি ভাড়া দেননি ওইদিন। সেখান থেকে গোপনসূত্র মারফৎ ধৃতদের ঠিকানা মেলে। পুলিস জানতে পেরেছে, ধৃতরা যোগসাজশ করে ঝাড়খণ্ডে লক্ষ লক্ষ টাকার ব্যাটারি বেচে দিয়েছে। তবে পুলিস এখনও গায়েব হওয়া ওই ব্যাটারির হদিশ করাতে পারেনি। ধৃত আনসারির নামে এধরনের একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিস। ভবানীপুর থানার পুলিস মাস দুয়েক আগে একইভাবে একটি পরি নটে ট্রাকের নম্বর প্লেট পাল্টে ছিনতাইয়ের আগে ইস্পাত বোঝাই একটি গাড়ি সহ দুষ্কৃতীদের পাকড়াও করেছিল।
No comments