করোনার কবলে যখন সারা বিশ্ব বিপর্যয়ের সম্মুখীন। এর জেরে বাংলার মৃৎশিল্পীরা চরম সংকটের মুখে পড়েছে।তার মধ্যে হঠাৎ করে লকডাউন,ফলে বন্ধ রয়েছে সমস্ত পূজা-পার্বণ ও বিয়ে। যার ফলে মাটির জিনিসপত্র বিক্রি না হওয়ায় খুব সমস্যায় পড়েছেন …
করোনার কবলে যখন সারা বিশ্ব বিপর্যয়ের সম্মুখীন। এর জেরে বাংলার মৃৎশিল্পীরা চরম সংকটের মুখে পড়েছে।তার মধ্যে হঠাৎ করে লকডাউন,ফলে বন্ধ রয়েছে সমস্ত পূজা-পার্বণ ও বিয়ে। যার ফলে মাটির জিনিসপত্র বিক্রি না হওয়ায় খুব সমস্যায় পড়েছেন মৃৎশিল্পীরা।এমতাবস্থায় গত বছরের লাভের টাকায় লকডাউনে সংসার চলছে এখনও। কিন্তু এভাবে আর কতদিন! জমানো টাকাও তো শেষ হতে চলল।ফলে লকডাউনে বিপাকে পড়েছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরা ও পটাশপুর থানার প্রতাপদিঘী,আলংগিরি, কুদি,বালিঘাই,মঙ্গলপুর,মংলামাড়ো,ব্যালগোবিন্দপুর সহ বিভিন্ন এলাকার মৃৎশিল্পী ও ব্যবসায়ীরা।
তাছাড়া সব পুজো-পার্বণ ও বিয়ে বিয়েবাড়িতেও মাটির তৈরি জিনিস আগে অনেকেরই। ফলে ক্রেতাদেরও অভাব হয় না।ফলে প্রতিবছর চৈত্র মাসের শেষ ও বৈশাখ মাসের শুরুর দিক থেকে ব্য়স্ততা বাড়ে মৃৎশিল্পী ও ব্যবসায়ীদের।কিন্তু এবার কী হবে? লকডাউনে বাড়ছে অনিশ্চয়তা।
জানা গিয়েছে,পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরা ও পটাশপুর থানা এলাকার মৃৎশিল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রায় কয়েক হাজার মানুষ।লকডাউনের কতজন যে কাজ হারিয়েছেন, তার ঠিক নেই।তাছাড়া প্রায় আড়াই মাস হয়ে গেল,মাটির তৈরি জিনিপত্রের বাজার বন্ধ। পূজো ও বিয়ের মরশুমের জন্য আগেভাগে মাটির ঘট,কলসি, হাঁড়ি তৈরি করে রেখেছিলেন শিল্পীরা। কিন্তু বিয়ে তো দূর অস্থ, পাড়ার পাড়ায় পূজোও এখন বন্ধ। ফলে মাটির তৈরি জিনিপত্র আর বিক্রি হয়নি।এই ক্ষতি কী করে সামাল দেবেন? কার্যত দিশেহারা মৃৎশিল্পী ও ব্যবসায়ীরা। চরমে আর্থিক অনটন দিন কাটছে শ্রমিকদেরও।
মৃৎশিল্পী গঙ্গাধর বেরা বলেন,এই লকডাউনে আমরা খুব সমস্যায় পড়েছি। মাটির জিনিসপত্র বিক্রি একদম বন্ধ হয়ে গেছে।তাছাড়া যেগুলো অর্ডার ছিল তা সবই বাতিল।এই পেশার মধ্যে দিয়েই আমাদের সংসার চলত,কিন্তু এখন আমরা সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েছি।তাছাড়া সরকার যদি আমাদের জন্য কোন প্রকার ব্যবস্থা করে তাহলে অনেকটাই উপকৃত হব।
No comments