হলদিয়ার বিধায়কের কাছে কি কি দাবি করলেন এলাকার মায়েরা
অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম সামনে আসতেই নানা প্রশ্ন শুরু হয়েছিল। ১২ পাতার ফর্ম ফিলআপ করতে হবে সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে এত তথ্য কেন দিতে হবে? সেই বিষয়টি নিয়ে এ বার মুখ খুলল…
হলদিয়ার বিধায়কের কাছে কি কি দাবি করলেন এলাকার মায়েরা
অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম সামনে আসতেই নানা প্রশ্ন শুরু হয়েছিল। ১২ পাতার ফর্ম ফিলআপ করতে হবে সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে এত তথ্য কেন দিতে হবে? সেই বিষয়টি নিয়ে এ বার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলনে বিষয়টি স্পষ্ট করে ছিলেন ।
তিনি জানান রাজ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালু রয়েছে। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে অন্নপূর্ণা যোজনায় কনভার্ট করা হচ্ছে। সেটা করতে গিয়েই সামনে এসেছে যে, বিপুল সংখ্যক ভুয়ো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ভাতার টাকা গিয়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের তথ্যে একাধিক গরমিল রয়েছে বলেও অভিযোগ। ভুয়ো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, বহু পুরুষ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেয়েছেন। তাঁর হুঁশিয়ারি, কাওকে ছাড়া হবে না। আর্থিক তছরূপ সংক্রান্ত অভিযোগও আনা হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ‘এখন পর্যন্ত ২২টা ভুয়ো অ্যাকাউন্ট পাওয়া গিয়েছে, যেখানে পুরুষরা টাকা নিয়েছেন। এই অ্যাকাউন্ট আরও কত হবে জানি না।’এমন ২২টা অ্যাকাউন্ট সামনে এসেছে যেখানে পুরুষরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিচ্ছেন, এর মধ্যে একটা রাকিবুল শেখের নামে, ১৫টি অ্যাকাউন্ট মুস্তাফিজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী চালাচ্ছেন। ৬টা তারিকুর রহমানের, এমন তথ্য দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারীরা পাচ্ছেন। তার সঙ্গে হাজার হাজার তৃণমূল নেতা যাঁরা মহিলা নন অথবা এর আওতায় আসেন না তাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন.. মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ৩০ লক্ষ ভুয়ো প্রাপকদের মাধ্যমে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা তোলা হয়েছে।
এর সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে মিথ্যে প্রচার যারা করছিলেন তারা নিজেরাই ফর্ম ফিলাপ করছে। আজ থেকে অনলাইন ফর্ম ফিলাপ হচ্ছে। বুধবার থেকে টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, ‘উচিত প্রাপকরা সবাই পাবেন, কেউ তাড়াহুড়ো করবেন না।’ SIR-এ যাঁরা বাদ গিয়েছে কিন্তু সিএএ-তে আবেদনকারী, তাঁদেরও সমস্যা হবে না বলে আশ্বাস। কিন্তু যাঁরা দেশের ভোটারই নয়, তাঁরা কেন সামাজিক ভাতা পাবেন? প্রশ্ন মুখ্যমন্ত্রীর। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা যাতে সঠিক প্রাপকদের কাছে পৌঁছয়, যোগ্য ব্যক্তিরাই যাতে এই সাহায্য পায়, তা নিশ্চিত করার জন্য সব পদক্ষেপ করা হবে বলে বার বার জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আগেই সামনে এসেছিল অন্নপূর্ণা যোজনার অফলাইন ফর্ম। সোমবার থেকে অন্নপূর্ণা যোজনা অনলাইন ফর্ম ফিলআপ শুরু হয়েছে।লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের উপভোক্তাদের নিয়ে ভূরি ভূরি অভিযোগ জমা পড়েছে। প্রায় ৩০ লক্ষ উপভোক্তা ভুয়ো বলেও জানিয়েছিলেন শুভেন্দু। সেই জন্যই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সকলের তথ্য এবং যোগ্যতা যাচাই করা হবে। রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পের সুবিধা ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলারা পাবেন। বলা হয়েছে, আয়কর দিলে বা সরকারি চাকরি করলে, নিয়মিত বেতন বা পেনশন পেলে এই প্রকল্পের টাকা পাওয়া যাবে না। ভুয়ো উপভোক্তা বা বাংলাদেশিরা এই প্রকল্পের সুবিধা যাতে না পান, তা যাচাই করার জন্যই ফর্মে বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হয়েছে। আগামী দিনে আরও সামাজিক প্রকল্প রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকার আনবে। সেগুলির সময়ে যাতে ডেটা সরকারের হাতে তৈরি থাকে, তার জন্যই এই তথ্য চাওয়া হচ্ছে।
হলদিয়া পৌরসভা প্রায় ১২৫ জন মায়েরা উপস্থিত ছিলেন তাদের হাতে অন্নপূর্ণা যোজনা সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়। ছিলেন বিধায়ক প্রদীপ কুমার বিজলী। এলাকার মায়েরা বিভিন্ন উন্নয়ন বিষয় নিয়ে এবং অন্নপূর্ণার যোজনা ফর্ম ফিলাপ সম্পর্কে বিধায়ককে অবহিত করেন। বিধায়ক প্রদীপ কুমার বিজয়ী এক এক করে সকল মায়েদের প্রশ্নের উত্তর দিলেন। বিধায়ককে কাছে পেয়ে কি কি প্রশ্ন করলেন মায়েরা.....


No comments